Pages

Showing posts with label Dhaka. Show all posts
Showing posts with label Dhaka. Show all posts

বউকে CNG করে দিতে গিয়ে হাতিরপুলে চালকদের দ্বারা দূর্ভোগের শিকার!

একটি প্রতিবাদের গল্প (চূড়ান্ত আপডেট):
গত ২২ তারিখ বৃহস্পতিবার বউকে সিএনজি করে দিতে গিয়ে হাতিরপুল এলাকায় চালকদের দ্বারা দূর্ভোগের শিকার হয়েছিলাম। ঝগড়া-বিবাদে না জড়িয়ে, ঘরে ফিরে বিআরটিএ পরিচালক বরাবর একটা অভিযোগ করেছিলাম।

প্রতিবাদের সেই ঘটনা ফেসবুকের কল্যানে ভাইরাল হয়েছে ইতোমধ্যে। ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা সিএনজিকেন্দ্রীক দুর্বিত্তায়নের বিরুদ্ধে আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন মানুষ মন্তব্য করেছিলেন। এরমধ্যে কিছু কিছু মানুষ বলেছিলেন, ‘এসব করে কোন লাভ নেই। এদের কিচ্ছু হবে না।’ এমন ভাবে তারা এই ঘটনার পরবর্তী আপডেট জানতে চাইছিলেন যেন আমি প্রতিবাদ করেই হাস্যকর কোন কাজ করেছি এবং তারা নিশ্চিত যে আমি পরবর্তীতে সুখকর কোন আপডেট তাদের দিতে পারবো না! ওই মানুষগুলোর কনফিডেন্স দেখে আমিও মনে মনে বিভ্রান্ত হয়েছিলাম, ‘অভিযোগ তো করলাম, কিন্তু আসলেই কী কাজের কাজ কিছু হবে! সংশয়বাদীদের সংশয় উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত কাজ হয়েছে। বিআরটিএ আমার অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আজ সকাল সকাল ফোন করে জানিয়েছে, অভিযুক্ত চালকেরা মালিকসহ শুনানিতে হাজির। আমি গেলে শুনানি হবে এবং শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। 

আমি হিসাব কষে দেখলাম, শুক্র-শনি বাদে মাত্র ৫ দিনেই অ্যাকশনে গেল বিআরটিএ। সিস্টেমের উপর আমার আস্থা থাকলেও এতো দ্রুত যে ফল পাবো তা ভাবিনি। সেইসব মানুষের জন্য খারাপ লাগছে, যারা আমাকে বলেছিলেন বিআরটিএ কিছুই করবে না! সবজান্তা এই ফেসবুক বিপ্লবীদের প্রতি একরাশ সমবেদনা!!! মনটা আনন্দে ভরে গেল। 

প্রথমে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট উৎপল সরকার। শ্যামলী এলাকার আরেকটি ঘটনায় তিনি আমার অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভারকে জরিমানা করেছিলেন। আমার ফোনে করা ওই ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যেই ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ দেখেছেন, শেয়ারও করছেন বহুজন। উৎপলের কাছ থেকে পাওয়া সাহসটা আজ বিশ্বাসে পরিণত করলেন বিআরটিএ'র পরিচালক (ইনফোর্সমেন্ট) এবং উপ-পরিচালক (ডিডি) মাসুদ আলম। বুঝলাম, সাহায্য চাইলে এবং সঠিক মানুষটার কাছে অভিযোগটা পৌঁছে দিতে পারলে, এই দেশেও প্রতিকার মেলে। শুনানিতে গিয়ে দেখি, হুংকার ছাড়া সেই চালক দুজন চোরের মত এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে। শুনানি শুরু হতেই তারা আমার হাতে-পায়ে ধরা শুরু করলো। অথচ এরাই সেদিন কী চরম দূর্ব্যবহারটাই না করেছিল আমাদের সঙ্গে!

জানলাম, ইতিমধ্যে চালকদের লাইসেন্স এবং গাড়ীর কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে শুনানি শেষে। আমি চেয়েছিলাম, ওরা বুঝুক যে দেশে আইন-কানুন আছে। দেশটা এখনও গোল্লায় যায়নি। সেটা করা গেছে। অধিকাংশ সিএনজি চালকই আমাদের জিম্মি করলেও, বিপদে-আপদে মায়া না দেখালেও, আমার ঠিকই ওদের জনঢ় মায়া লাগলো। লাইসেন্স বাতিল হলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পথে বসবে। ডিডিকে তাই অনুরোধ করলাম, 'আপনারা শুনানিতে ডেকেছেন, ওরা অপরাধ স্বীকার করেছে, আমি এতেই খুশি। প্রথম অপরাধ হলে মানবিক দিক বিবেচনায় এবং মিটারে চলবে এই মর্মে অঙ্গীকার নিয়ে ওদের এবারের মতো লঘু শাস্তিতে মাফ করে দিতে পারেন। আমি চাইনা মানুষগুলো স্থায়ী ভাবে বেকার হয়ে যাক।'

এরপর শুনানিতে ওদের বড় অঙ্কের জরিমানা হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়নি, বাতিল হয়নি গাড়ীর পারমিশনের কাগজপত্রও। শাস্তি হোক চেয়েছি, কিন্তু পথে বসে যাক চাইনি। সংশয়বাদীরা প্রথমে বললেন, অভিযোগ করে লাভ নেই। বিআরটিএ নিজেই বড় দুর্নীতিবাজ। তারপর হাতেনাতে পুলিশী সাজার উদাহরণটা শেয়ার করার পর ভোল পাল্টে বলতে শুরু করলেন, গরীবের পেটে লাথি মেরে লাভ কী? (মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা আয়ের লোকেরা গরিব হলে এই শহরের শিক্ষিত লোকেদের ৮০ ভাগই দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে) আর আজ যখন বিআরটিএ আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনলো, সংশয়বাদীরা নিশ্চয়ই নতুন কোন গীত গাইতে শুরু করবেন।  ওসব নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। তারা ফেসবুকে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর কুতর্কের বিপ্লব করতে থাকুক। নেতিবাচক মানুষের মুখে চুনকালি মেখে দিয়ে, আসুন আমরা বরং দেশটাকে এভাবেই একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাই। যে যার যায়গা থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদটা করি। 

মনে রাখবেন, আপনার প্রতিবাদটা অন্য কেউ এসে করে দিয়ে যাবে না, আপনাকেই করতে হবে। লাখো মানুষের রক্তে অর্জিত প্রিয় মাতৃভূমিকে কথায় কথায় দেষারোপ না করে, আসুন নিজের চরিত্রটা বদলাই। আপনি বদলালে, দেশও বদলাবে। কোথাও না কোথাও থেকে শুরু তো করতে হবে। আমি শুরু করে দেখালাম যে সম্ভব। আপনিও শুরু করুন। ইতোমধ্যেই অনেকেই শুরু করেছেন। দেখবেন অচিরেই আমরা ফল পেতে শুরু করবো। এই ঘটনায় যদি রতন ও ছানোয়ারের মতো ১০ জন চালকও শুধরায়, তবেই আমরা সার্থক। ধন্যবাদ বিআরটিএ, সার্জেন্ট উৎপল এবং সেইসব মানুষদের যারা ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করেছেন, নিজেরাও প্রতিবাদের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সিএনজি সংক্রান্ত প্রতিবাদের ধারাবাহিক আপডেটের এখানেই সমাপ্তি হলো।
আমি যেভাবে অভিযোগটি করেছিলাম:
বরাবর,
পরিচালক (ইনফোর্সমেন্ট)
বিআরটিএ, ঢাকা।
বিষয়: মিটারে যেতে না চাওয়া এবং অন্যায্য ভাড়া দাবী করা সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

জনাব,
আমি মো. আবদুল্লাহ আল ইমরান, (নিজ ঠিকানা) এলাকার বাসিন্দা। আমি এবং আমার স্ত্রী অফিসের গাড়ী ধরতে না পারলে প্রায়শই সিনজিতে যাতায়াত করি।  গত ২২-০৯-১৬ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আমি একং আমার স্ত্রী হাতিরপুল মোড়ের একটু আগে সেন্ট্রাল রোডের মুথে দাঁড়িয়ে থাকা কমপক্ষে ৭-৮ টি সিএনজিকে শত অনুরোধ করেও মিটারে যেতে রাজি করাতে পারিনি। ঢাকা ডিসি অফিস পর্যন্ত যেতে কেউ কেউ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দাবী করেন। ওখানে অবস্থিত সকল সিএনজি ড্রাইভার একজোট হয়ে এই অনৈতিক দাবিটি করেন। কেউই মিটারে যেতে রাজি হননি। এমনকি ২০ টাকা বাড়িয়ে দেয়ার অফার করলেও তারা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসেন। এ অবস্থায় ঝগড়ায় না জড়িয়ে আমি অভিযুক্ত অন্তত দুটি সিএনজির নাম্বারসহ ছবি তুলতে সক্ষম হই। নাম্বার দুটি হলো - ঢাকা মেট্রো - থ ১৪১৬৬৭ এবং ঢাকা মেট্রো থ - ১২৮২৪৯। 
এরপর আপনার সঙ্গে ফোনে কথার সূত্র ধরে ছবিসহ এই অভিযোগটি দাখিল করছি। আশা করছি আপনি যাথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এটি প্রতীয়মান করবেন যে, দেশে এখনো আইন-কানুন বিলুপ্ত হয়নি। এ বিষয়ে শুনানিতে ডাকা হলে আমি নিজে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সবিস্তারে জানাবো। 

অতএব, মহাদয়ের নিকট আবেদন, দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত সিএনজি চালক দুজনকে ডেকে যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা করে বাধিত করবেন।

নিবেদক
আবদুল্লাহ আল ইমরান
ফোন:
ইমেইল:

অভিযোগের ঠিকানা:
পরিচালক (ইনফোর্সমেন্ট): 01712509058
ইমেইল: denf@brta.gov.bd
টেলিফোন: 029113133, 0258154701, 029115544
এছাড়াও বিআরটিএ'র ওয়েব সাইটে গিয়ে অনলাইনে অভিযোগ করা যাবে। ওয়েবসাইট: http://brta.gov.bd/index.php/queries-complains

Managing Director,
Four D Communications Limited and
Founder President at Dhaka University IT Society (DUITS)
বিঃদ্রঃ আমাদের পোষ্ট গুলো যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। তাহলে আর ভাল পোষ্ট নিয়ে হাজির হব।

জেনে নিন শীর্ষ ৮ বাংলাদেশের ধনীদের কথা!

When you hear Bangladesh you don’t imagine it’s the richest country in the world, right? In fact, its ratio of rich to poor people is quite troubling. And along with the meager economy and low GDP, many of the citizens of Bangladesh have financial problems.

Yet, despite all that, there are people who one way or another managed not only to stay afloat, but also become millionaires, the 1%, if you will, of Bangladesh. Now let’s see who the top 10 richest Bangladeshi people are and how much they’re worth.

Ragib Ali – the richest tea gardener
We personally love tea so we have no problem with this man getting on this list at #8 with 250 million dollars in his pocket. Ragib Ali is a great Bangladeshi businessman, who earned most of his wealth from the tea industry. And just imagine how many people are enjoying that bitter-sweet nectar of the gods right this second? Not to mention all the jobs he’s providing, because, let’s be real, as long as there are humans on this planet, tea and coffee will always be trade commodities.
Giasuddin Mamun – the richest timber businessman
Timber is not as good as tea, but it pays the bills just as well. And the person in charge of the timber business in Bangladesh is Giasuddin Mamun, who’s already snatched a hefty 400 million dollars to his bank account. He should really invest in recycling, though.
Dr. Mohiuddin Khan Alamgir – the millionaire minister
Some say Dr. Mahiuddin Khan Alamgir is the richest minister in Bangladesh, but you never know. He’s got around 400 million dollars, which isn’t too shabby, but not that much wither. Although, no-one really knows where all that money’s coming from. Just another scumbag politician.
Ahmed Akbar Sobhan – the founder of Bashundhara Group
Now, this is the guy who has earned his every penny fair and square with innovative business ideas and smart deposits. Ahmed is currently at 500 million dollars, but there’s still time!
Sayeed Abul Hossain – the richest Member of Parliament
How do you get the title of “the richest member of Parliament”? Easy! All you have to do is found SAHCO International Limited. Weirdly enough, Sayeed’s net worth is also around 1 billion dollars, just like Terek Rahman and Sajeeb Wazed Joy, who, incidentally, are also on this list.
Sajeeb Wazed Joy – the richest grandson in Bangladesh
Sajeeb is the grandson of the “Father of Nation”, Sheikh Mujibur Rahman, and the son of the current Prime Minister Sheikh Hasina. By this day he’s been able to grab over 1 billion dollars from thin air, as he’s not taking an active part in any political “games”.
Tarek Rahman – the richest political leader
Raised in an extremely rich family of politicians, Tarek followed in their steps and became the Vice Chairman of Bangladesh Nationalist Party, and now has earned around 1.5 billion dollars. Mommy and daddy also helped, of course.
Musa Bin Shamsher – the “Prince of Dhaka”
Musa is the founder of DATKO group, and has earned over 1.5 billion dollars from his immigration business. He’s also known as “Prince Musa” in Bangladesh because of his business connections and wealth, and he lives in a stunning bungalow in Dhaka.
বিঃদ্রঃ আমাদের পোষ্ট গুলো যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন তাহলে আর ভাল পোষ্ট নিয়ে হাজির হব

হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জনতা ব্যাংকের মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টারের অবহেলা!

জনতা ব্যাংকের মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টারে ঝিম ধরে বসে থাকা যুবক বয়েসি লোকটির কাছে গিয়ে বললাম, ভাই আমি কিছু ডলার ভাঙাতে চাই। সে বলল, কত ভাঙাইবেন? আমি বললাম, বেশি না, এই ধরুন ৮৫ ডলারের মত। সে বলল, না ভাই কিনবো না। আমি বললাম, কেন কিনবেন না? সে বলল, এত কম ডলার কিনি না। শ্যাম বর্ণের এই যুবকটির মুখে এই কথা শুনে প্রতিবারের মত আবারও নতুন করে হোঁচট খেলাম।

ঢাকা এয়ারপোর্টে প্লেইন ল্যান্ড করেছিল রাত আড়াইটার নিকে। প্লেইন থেকে নেমে ইমিগ্রেশন পার হয়েই ডলার চেঞ্জ করে টাকা নেয়ার জন্য মানি এক্সচেঞ্জ বুধগুলোর দিকে গিয়েছিলাম। এই জায়গাটিতে সব বুথগুলো থেকে "ভাই আসেন, ভাই আসেন, ভাল রেইট দিবো, সব চেয়ে ভাল রেইট দিবো" বলে বিদেশ ফেরত যাত্রীদেরকে ডাক দিতে দেখা যায়। বিষয়টি আমার মোটেও পছন্দ নয়।
পৃথিবীর অন্যান্য এয়ারপোর্ট গুলোতে এধরনের দৃশ্য চোখে পরে না। আমি এতে অভ্যস্ত নই। এত কম ডলার কিনবে না জানর পর কিছুক্ষণ চুপ হয়ে ছিলাম। এর পর হুট করে ফেইসবুক পেইজ Magistrates, All Airports of Bangladesh এর কথা মনে পরে গেল, যেখানে সকল যাত্রীদের এয়ারপোর্ট সম্পৃক্ত অন্যায়, অবিচার বা ভোগান্তির বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হয়।। প্রমাণাদি সহ এয়ারপোর্টে যে কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি এই পেইজের মাধ্যমে অভিযোগ করলে সমধান ও বিচার পাওয়া যায়। তাদের পেইজের পোস্ট আর মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি।
যুবকের দিকে মুচকি হাসি দিয়ে প্রমাণাদি সংগ্রহের জন্য ডলারগুলো কাউন্টারের উপর রেখে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে প্রথমে ডলার সহ তার একটি বড় করে ছবি নিলাম। এরপর একটু দুরে শরে গিয়ে জনতা ব্যাংক লেখা সহ বুথটির ছবি তুললাম। ঠিক মত ফোকাস না হবার কারণে দ্বিতীয় ছবিটি তুলতে একটু সময় লেগেছিল।

ছবি দুইটি তোলার পর মোবাইল ফোন পকেটে পুরে যুবকটির কাছে গেলাম। তাকে দেখে দ্বিতীয়বারের মত আবারও হোঁচট খেলাম। সে আমার ডলারগুলো মনোযোগ দিয়ে গুনছে আর ক্যালকুটারে কি যেন টিপাটিপি করছে। দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছে যেন একটু আগে ঘটে যাওয়া "এত কম ডলার কিনি না" ঘটনাটি নিতান্তই একটি কল্পনা ছিল মাত্র। তার শ্যামবর্ণের চেহারায় "চোর ধরা পরে যাওয়া" ধরনের ঘটনার স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। যুবকের পাশে বসে থাকা মাঝ বয়েসের ঘুম থেকে ওঠা লোকটি হাই তুলতে আমার দিকে না তাকিয়ে বলল, আপনার পাসপোর্টটা দেন। আমি আমি আমার পাসপোর্টটি তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর যুবক আমার হাতে পাসপোর্ট, ডলার চেঞ্জের রশিদ আর ৮৫ ডলারের সমপরিমাণ টাকা বুঝিয়ে দিল। সে তখনও পর্যন্ত নীরব ছিল, আমার দিকে তাকাচ্ছিল না। আমার ধারনা সে মনে মনে তখন কাউকে গালাগালি করছিল। হতে পারে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে। "ম্যাজিস্ট্রেট হালা ডাইরিয়া হইয়া মরে না কেন" ধরনের অভিশাপ যুক্ত গালাগালি।

আমি টাকাগুলো গুলো গুনে নিয়ে যুবককে বললাম, কি ব্যাপার ভাই? একটু আগে যে বললেন কম ডলার কেনেন না, তো হঠাৎ কি হল? সে কাচুমুচু হয়ে বলল, আজকে ডলার কেনা শেষ, তাই আপনারে ঐটা বলছিলাম। আমি বললাম, ডলার কেনা শেষ, নাকি অন্য কিছু? সে হাতে পায়ে ধরার মত ভঙ্গি করে বলল, ভাই,এই ছবি কোথাও দিয়েন না, মাফ চাই, স্যারের কাছে কিছু বইলেন না। আমি হাসলাম, তাকে বললাম, "শক্তের ভক্ত আর নরমের জম" একটা বিষয় আছে, তাই না মানি চেঞ্জার সাহেব? সে আমার দিকে অপরাধ ভঙ্গিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল, আমি মনে মনে Magistrates, All Airports of Bangladesh কে স্যালুট দিতে দিতে লাগেজ নিতে হাসতে হাসতে রওনা হলাম।

বাংলাদেশ এর কুৎসিত আবর্জনাগুলো দুর করে সুন্দর বাংলাদেশ তৈরি করতে বিশেষ ব্যাক্তিদের সততার সাথে ইচ্ছে শক্তিই যথেষ্ট।

Bengal Tiger

জেনে নিন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা কে কোথায়?

অবিভক্ত পাকিস্তানের সর্বপ্রথম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির জন্ম আওয়ামী লীগের এক বছর আগে। জন্মের পর যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের কাতারে ছিল সংগঠনটি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম ও ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিল ছাত্রলীগ। দেশের প্রাচীন এই সংগঠনটি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে গত দুই যুগেরও বেশি সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন না থাকায়। স্বাধীনতার ৬ মাসের মাথায় ছাত্রলীগে ভাঙন দেখা দেয়।

তবে ১৯৭১ সাল থেকে বর্তমান কমিটি পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এসেছেন ১৫ জন। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ছিলেন ১জন। সাবেক এই ছাত্র নেতাদের মধ্যে বর্তমানে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামে আসতে পেরেছেন মাত্র ১ জন, বিএনপিতে গেছেন ২ জন, অন্য দলে ২জন। বাকিদের মধ্যে অনেকে বেঁচে নেই। কেউ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে। পদহীনও রয়েছেন বেশ কয়েকজন। দশম জাতীয় সংসদে এমপি হয়েছেন ৫ জন। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন একজন।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন নুরে আলম সিদ্দিকী। বর্তমানে তিনি প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক। তার সময়ে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন শাজাহান সিরাজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মাথায় এই দুজনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগে ভাঙন দেখা দেয়। এর মধ্যে মুজিববাদী হিসেবে পরচিতি অর্থাৎ মূল অংশের নেতৃত্বে থেকে যান নুরে আলম সিদ্দিকী। আর শাজাহান সিরাজের অংশটি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীপন্থী হিসেবে পরিচিত হয়। এই অংশটি পরবর্তী সময়ে জাসদ ছাত্রলীগ নামে আত্মপ্রকাশ করে। শাজাহান সিরাজ ছাত্র রাজনীতি শেষ করে যোগ দেন জাসদের রাজনীতিতে। তিনি জাসদের টিকিটে ৩ বার এমপি নির্বাচিত হন। এরপর যোগ দেন বিএনপিতে। ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান পদে। ৮ম সংসদে বিএনপির এমপি ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দল ও রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।

এরপর ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির পদে ছিলেন শেখ শহীদুল ইসলাম। তিনি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। শেখ শহীদ পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি এরশাদ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বর্তমানের আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদে আছেন। তার সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম এ রশিদ। তার পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালী। তিনি বর্তমানে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন এর সঙ্গে জড়িত।

১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এমপিও নির্বাচিত হন। তার নিজ জেলা কুমিল্লা। মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতির সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল আলম প্রধান। সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থাতেই তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি।

১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পর জাতীয় ছাত্রলীগ ছাড়া সকল ছাত্র সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যায়। জাতীয় ছাত্রলীগের সভাপতির কোনও পদ না থাকায় সাধারণ সম্পাদক হয়ে পুনরায় আসেন শেখ শহিদুল ইসলাম। এরপর ১৯৭৭ সালে জাতীয় ছাত্রলীগ থেকে আবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগে রূপান্তরিত হয়। যার আহ্বায়ক পদে ছিলেন এম এ আউয়াল। তার পৈতৃক নিবাস নারায়ণগঞ্জে। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি মারা গেছেন। এরপর ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে তিনিই সম্ভবত দলের সর্বোচ্চ পদে আসীন আছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য ছাড়াও দুই মেয়াদের পালন করছেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এর আগে ১৯৯৬ সালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ থেকে এমপি নির্বাচিত হন।
ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাহালুল মজনুন চুন্নু। বর্তমানে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের নির্বাচনী দেখভালের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান তিনি।

১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি হন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা মোস্তফা জামাল চিকৎসকদের সংগঠন বিএমএ’র ৩ বারের নির্বাচিত সেক্রেটারি। ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে লালবাগ থেকে এমপি নির্বাচিত হলে দশম নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের কাছে হেরে যান। তার সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আ খ ম জাহাঙ্গীর। তিনি দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। বর্তমানে ব্যবসায়ী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী থেকে এমপি হওয়ার আগেও একাধিকবার এমপি হয়েছেন।
১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন আবদুল মান্নান।
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা এই ছাত্র নেতা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুরায় সারিয়াকান্দি থেকে এমপি হয়েছেন। বর্তমানে একজন কৃষিবিদ হিসাবে পরিচিত। মান্নানের সভাপতির সময় সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। নবম সংসদে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে এমপি হওয়ার পর দায়ত্বি পান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। দশম সংসদ এমপি হলেও কেবিনেটে স্থান পাননি তিনি।

১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে তিনিই প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রহমান। নবম ও

দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি এমপি হয়েছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিনি। রাজনীতির বাইরে তিনি শেয়ার মার্কেটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি হন হাবিবুর রহমান। পরে ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়ে যোগ দেন বিএনপিতে। বর্তমানে বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। তার সময় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন অসীম কুমার উকিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক। দশম সংসদে মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি। তার স্ত্রী অপু উকিল যুব আওয়ামী মহিলা লীগের সেক্রেটারি।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সংগঠনের সভাপতির ছিলেন মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করা নেতার পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের সাতকানিয়া। রাজনীতিতে থাকলেও তেমন সরব নন। নেই কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদেও। তার সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইকবালুর রহিম। দশম সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর সদর থেকে এমপি হয়ে বর্তমান সংসদের একজন হুইপ। দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই তিনি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। শামীমের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন ইসহাক আলী পান্না। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক তিনি। এ ছাড়া একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন বাহাদুর বেপারি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক। তিনি পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া একজন টক-শো ব্যক্তিত্ব হিসাবে রয়েছে তার পরিচিতি। তার পৈতৃক নিবাস শরিয়তপুর। বাহাদুর বেপারির সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অজয় কর খোকন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক। দশম সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি। পরে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করে দেয়।

২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন লিয়াকত শিকদার। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী। লিয়াকত শিকদারের সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নজরুল ইসলাম বাবু। নবম ও দশম সংসদের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে এমপি হয়েছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক। রাজনীতি ছাড়াও জড়িত আছেন ব্যবসায়। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। একই সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক।

২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন বদিউজ্জামান সোহাগ। সোহাগের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। তারা দুজন এখনও দলের ভাল পদে আসতে পারেননি। বর্তমানে ছাত্রলীগের সভাপতির পদে রয়েছেন মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন এস.এম. জাকির হোসেন। তার পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার। এরা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

হিন্দু ইজারাদারের হাট থেকে গরু কিনে কোরবানী নিয়ে প্রশ্ন!

হিন্দু ধর্মালম্বীরা গরুকে দেবতা মানেন এবং পূজা করেন। যে কারণে ভারতে গরুর জবাই নিষিদ্ধ করেছে। গরু জবাইয়ের কারণে ভারতে অনেকের প্রাণ হারাতে হয়েছে। আর বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ বন্দরে কোরবানীতে নিশ্চিত গরু জবাই করার জন্য অস্থায়ী হাটের ইজারা নেয় হিন্দু গোপাল নন্দী।

এ হাটের গরুর কোরবানীর জন্য কতটুকু সঠিক এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন্দর উপজেলায় সিটি এলাকাসহ মোট ১১টি হাটের বৈধ অনুমতি নেয়া হয়।
১টি হাট দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে বসানো হয়। জাতীয়পার্টি নেতা মুরগী শাহআলম এমপি সেলিম ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে সিটি করপোরেশনের এলাকা বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন ময়মনসিংহ পট্টিতে অবৈধ গরুর হাট বসায়। বাকি বৈধ ১১টি হাট হলো বন্দরের সিটি করপোরেশন এলাকায় জামাল সোপ খেয়া ঘাট সংলগ্ন অস্থায়ী গরুর হাট ইজারাদার বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান মুকুল, চৌড়াপাড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন গরুর হাট ইজারাদার আসাদ মিয়া, উত্তর লক্ষণখোলা গরুর হাট ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম চৌধুরী, রূপালী আবাসিক এলাকায় গরুর হাট ইজারাদার গোপাল নন্দী, সোনাকান্দা গরুর হাট ইজারাদার আওলাদ হোসেন, নবীগঞ্জ গরুর হাট ইজারাদার শফিউল্লাহ।

ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বন্দর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন পূর্বপাশে কলাবাগে গরুর হাট ও সমর ক্ষেত্রের পূর্বপাশে গরুর হাট দু’টির ইাজারাদার এম এম কামাল সিকদার, মদনপুর নেহাল সরদারের বাগ গরুর হাট ইজারাদার আমির হোসেন, লাঙ্গলবন্দ চিড়াইপাড়া গরুর হাট ইজারাদার কাজী মোতালেব মেম্বার, মদনপুর হাসেম সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন গরুর হাট ইজারাদার আলী আসগর ভ’ইয়া। বন্দরে অবৈধ গরুর হাট সংক্রান্ত বন্দর থানার ওসি আবুল কালম বলেন, বন্দরে মোট ১১টি হাট ইজারা হয়েছে। এর বেশী হলে তা অবৈধ। যদি কেউ অবৈধ হাট বসায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Reference by: News Paper

হৃদয়ে মাটি ও মানুষ শাইখ সিরাজের নীরব বিপ্লব

শাইখ সিরাজ ভাই আমাদের সামনে আছেন বলে অনেক সময়ই আমরা তাঁর সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি না কিন্তু তাঁর কীর্তি এবং অবদান, তাঁর জীবন, তাঁর প্রচেষ্টা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে

এক নম্বর হলো সাধনা, ঐকান্তিকতা শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, কবির সকলি আছে, একাগ্রতা নেইআমাদের শাইখ ভাইয়ের একাগ্রতা আছে সেটা খুব বড় কথা

ডেভিড শেংক নামের একজন লেখক আমেরিকায় একটা বই বের করেছেনবহু গবেষণা করেদ্য জিনিয়াস ইন অল অব আস তিনি বলছেন, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আইনস্টাইন, পিকাসো, বেটোফেনের জিন আছে আমরা সবাই জিনিয়াস কিন্তু প্রকৃত জিনিয়াসরা একটা বিষয়ে এত মনোযোগ দেন, এত সাধনা করেন, এত একান্ত চেষ্টা করেন যে, তাঁর ওই জিনটা সক্রিয় হয়ে ওঠে
শাইখ সিরাজ ভাই কৃষি নিয়ে একান্তভাবে সাধনা করে গেলেন ফলে কৃষি সাংবাদিকতায় তিনি হয়ে উঠলেন একজন মহিরুহ

দুই. কৃষিকে আমরা সব সময় ভেবে এসেছিখ্যাতজিনিস আমাদের সংবাদপত্রগুলোতে কত বিভাগ আছে, কিন্তু কৃষি নেই অথচ বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ কৃষকের দেশ কৃষির দেশ

শাইখ সিরাজ ভাই বাংলাদেশ টেলিভিশনেমাটি মানুষনামের অনুষ্ঠান করতে শুরু করেন তারপর তাঁরা যখন চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠা করলেন, তিনি শুরু করলেনহৃদয়ে মাটি মানুষ এখনো বিটিভিতে তিনি কৃষি-বিষয়ক অনুষ্ঠান করেন এর বাইরেও চ্যানেল আইতে কৃষিসংক্রান্ত চিঠিপত্রের জবাবের অনুষ্ঠান, ঈদে কৃষকের ঈদ আনন্দ, বাজেটের আগে কৃষকের বাজেট ভাবনা-জাতীয় অনুষ্ঠান করেন তিনি চ্যানেল আইয়ের বার্তা বিভাগের প্রধান চ্যানেল আইয়ের খবরেও কৃষি সংবাদ থাকে আবার শিক্ষিত তরুণদের মাঠে নিয়ে গিয়ে কৃষিকাজ করতে লাগিয়ে দিয়ে তিনি করলেন রিয়্যালিটি শো মানে কৃষিও যে একটা ভালো বিষয় হতে পারে, যা একটা বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার করা যায়, সেই অনুষ্ঠানটিকে জনপ্রিয় করা যায়, তা তিনি দেখিয়ে দিলেন

তার ফলটা আমরা পেলাম জাতীয়ভাবে আজকে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ আজকে বাংলাদেশে মাছ চাষের বিপ্লব ঘটে গেছে পৃথিবীর সেরা মৎস্য উৎপাদক দেশের একটা আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর সেরা ফল উৎপাদক দেশের একটা বাংলাদেশ এসবের পেছনে সরকারের অবদান আছে, কৃষকদের অবদান আসল, কিন্তু শাইখ সিরাজকেও এর গৌরবের ভাগ আমাদের দিতে হবে তা যে কত বড় কথা, আমরা কি তা বুঝি

শাইখ ভাই ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করে প্রাকৃতিক উপায়ে কীটের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার সবুজ উপায় জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেন দেশে আর দেশের বাইরে যে যেখানে কৃষিতে ভালো করছেন, তা তিনি তাঁর অনুষ্ঠানে দেখান সেটা বড় কুলই হোক আর খেজুরের চাষই হোক তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপকূলের কৃষকেরা ভাসমান সবজি চাষ করছে, তিনি তাও দেখান অর্থাৎ কিনা নতুন ধরনের কৃষিপদ্ধতি, যা আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করবে, আবার উৎপাদনও বৃদ্ধি করবে, তা প্রচারে প্রসারে শাইখ সিরাজ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন

দেশে তিনি মাত্র ৩৯ বছর বয়সে পেয়েছেন একুশে পদক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর স্বীকৃতি আরও বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের অশোকা ফেলো শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ ফিলিপাইনের গুসি শান্তি পুরস্কার ২০০৯ সালে অর্জন করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি সংস্থার এইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড তিনি পেয়েছেন ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ডস ব্রিটিশ বাঙালি সংগঠনের গ্রিন অ্যাওয়ার্ড ব্রিটিশ হাউস অব কমনস তাঁকে প্রদান করেছে বিশেষ সম্মাননা ছাড়া পেয়েছেন অর্ধশত দেশি-বিদেশি পুরস্কার সম্মাননা

আর পেয়েছেন দেশের মানুষের ভালোবাসা ফেসবুকে তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বর একজন রাস্তাঘাটে তিনি হাঁটতে পারেন না, মানুষ তাকে ছেঁকে ধরে চ্যানেল আইয়ে কী ভালো লাগে, প্রশ্ন করলে উত্তর আসে—‘হৃদয়ে মাটি মানুষ

তাঁকে রোজ দেখি, কথা বলি, তাঁর পাশে বসে চা খাই, জন্য অনেক সময় তাঁর বড়ত্বটা বুঝতে পারি না
ভালোভাবে ভেবে দেখলে শাইখ সিরাজ এক নীরব বিপ্লবের নাম
১৯৫৪ সালের সেপ্টেম্বর, এই দিনে তিনি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন
তাঁকে অনেক অনেক শুভেচ্ছাprothom-alo.com