Pages

Showing posts with label Al Hajj. Show all posts
Showing posts with label Al Hajj. Show all posts

কুরবানি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি!

সাম্প্রাতিক সময়ে কিছু মহল কোরবানীর বিরুদ্ধে লেগেছে। তারা বলছে- এত কোরবানী করার দরকার কি? এই গোষ্ঠীর কথা শুনে ইতিমধ্যে সরকারও কোরবানীর উপর বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করেছে, যেন মানুষ কোরবানীর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কিন্তু এই গোষ্ঠীটি চিন্তাই করে না কোরবানী দেশের অর্থনীতির উপর কত বিশাল ভূমিকা রাখছে।
আসুন কোরবানী ঈদে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্যের পরিমাণ দেখি-
১) কোরবানী ঈদ উপলক্ষে শুধু মশলার ব্যবসা হয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার।
২) ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিটেন্স ঢুকেছে ২৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা
৩) পশু বিক্রি হয় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা
৪) চামড়া বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, সেই চামড়া বিদেশে রফতানি করে আয় হয় ৯ হাজার কোটি টাকা
৫) কসাইরা লাভ করে প্রায় ৪-৫ হাজার কোটি টাকা
৬) গরীবরা মাংশ পায় ১০ হাজার কোটি টাকার
৭) ছুরি, বঁটি, দা, চাপাতি, রামদা ইত্যাদি উপকরণের বাজার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা
৮) পশু খাদ্যের বাজারও প্রায় হাজার কোটি টাকা
৯) কোরবানির ঈদের পর প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পশুর হাড় সংগ্রহ করা হয়। প্রকার ভেদে প্রতিটি কেজি গরুর শিংসহ হাড় বিক্রি হয় ১০ থেকে ২৫ টাকায়। এতেই প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়।
১০) ঈদে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত যাচ্ছে ৬০০ কোটি টাকা। এ উৎসবে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার কোটি টাকা। এসব খাতে নিয়মিত প্রবাহের বাইরে অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।
১১) সরকারি হিসেবে হাটগুলোর হাসিলের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৪২৫ কোটি টাকা
১২) রাজধানীর গাবতলী হাটে কোরবানির পশু সাজাতে কাগজ ও জরির মালা, রংবেরঙের দড়ি বিক্রির পরিমাণ দৈনিক ১৬ লক্ষ টাকা, শেষ ১০ দিনে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।
১৩) গরুর অন্ডকোষ মুসিলমরা ফেলে দেয়, কিন্তু এটা চীন-জাপানরা কিনে নিয়ে সুপ বানিয়ে খায়। এ থেকে রপ্তানি হয় প্রায় ১২০ কোটি টাকা।
১৪) কোরবানি ঈদের অর্থনীতিতে লেনদেনের আকার প্রায় ৫০ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের বাৎসরিক বাজেটের প্রায় ২০ গুন ।
১৫) ঈদ উপলক্ষে অর্থনীতিতে সংযুক্ত হবে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা

কোরবানি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে একথা বললে আসলে ভুল হবে, বরং দেখা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতিই নির্ভর করছে কোরবানীর উপর। তাই যে বা যারাই কোরবানীর বিরোধীতা করছে, তাদের লক্ষ্য শুধু ধর্মচর্চা বন্ধ করা নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

Bengal Tiger

কোরবানির গোশত কতোদিন সংরক্ষন করে খাওয়া জায়েজ?

মোটাতাজা পশু কিনে শুধু কোরবানি করাই শেষ নয় গোশত বণ্টন ও নিজের খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অংশ রাখার বিষয়ে নজর দেয়াও জরুরি। কোরবানির গোশত কীভাবে বণ্টন করবেন, নিজের খাওয়ার জন্য কতোদিন জমিয়ে রাখা যায় – এ প্রসঙ্গে কিছু বিধান জেনে নিন।
কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা:
কোরবানির গোশত তিন দিনেরও বেশি সময় জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৮, ইলাউস সুনান ১৭/২৭০

কোরবানির গোশত বণ্টন:
শরীকে কোরবানি করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয নয়।-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১

কোরবানির গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকিনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০

গোশত, চর্বি বিক্রি করা:
কোরবানির গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০১

জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেয়া:
জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কোরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া জায়েয হবে না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেয়ার পর পূর্বচুক্তি ছাড়া হাদিয়া হিসেবে গোশত বা রান্না তরকারি দেয়া যাবে।

কোরবানির গোশত বিধর্মীকে দেয়া:
কোরবানির গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান ৭/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া।

সংগৃহীত